জাবি শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ভাইরাল: প্রধান আসামি গ্রেফতার
জাবি শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ভাইরাল: প্রধান আসামি গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টারঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর, ছিনতাই এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূলহোতা ও প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও লুণ্ঠিত টাকার অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি শিশির আহম্মদ তালুকদার রাতুল (২২)। তিনি পূর্বধলা উপজেলার শালদিঘা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। রোববার (১৪ জুন) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগী মো. শরিফ হোসেন রওশান (২০) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার মল্লিকপুর শুনই গ্রামে। পুলিশ জানায়, গত ১০ জুন সন্ধ্যায় রওশান নেত্রকোনা সদরের নতুন বাইপাস এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিযোগে রওনা হন। পথিমধ্যে ভুলবশত পূর্বধলা উপজেলার শালদিঘা এলাকায় নেমে যান তিনি। পরে পায়ে হেঁটে ত্রিমোহনীর দিকে যাওয়ার সময় রাত ৭টার দিকে শালদিঘা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে দুজন দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আরও একজন যোগ দিয়ে তিনজন মিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেয় এবং পকেটে থাকা ৪ হাজার ৫৬০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে জোরপূর্বক তাঁর মোবাইল ফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ১০ হাজার টাকা এবং বিকাশ ঋণের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে মোট ১১ হাজার ৫০০ টাকা নিজেদের নম্বরে স্থানান্তর করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাঁর ব্যবহৃত প্রায় ২২ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর ফেসবুক আইডি দেখে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানতে পারে। এরপর তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ ও পুনরায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তাঁকে জোরপূর্বক বিভিন্ন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল রাহিদের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকা থেকে প্রধান আসামি রাতুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স